বাবার রাজনীতির ধারায় ‘অবিচল ছিলেন’ নাসিম

বিএন নিউজঃ এম মনসুর আলী যেভাবে বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে কাজ করে গেছে, তার ছেলে নাসিমও তেমনি আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে সামনে থেকে লড়েছিলেন।নাসিমের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় এম মনসুর আলী ও মা মোসাম্মৎ আমেনা মনসুরের ঘরে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এম মনসুর আলী স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

নাসিম জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেন।

গত শতকের ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী নাসিম স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন তিনি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারে এম মনসুর আলীকেও হত্যা করা হলে আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন নাসিম। তখন কারাগারেও যেতে হয়েছিল তাকে।

১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম। তখন সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্বও পান তিনি। তখন তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।

এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১, ২০১৪, ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাসিম এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে ও সেবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন নাসিম। ঢাকাসহ নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন।

মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচার-সামরিক শাসনবিরোধী লড়াইয়ে মোহাম্মদ নাসিমের  ভূমিকা আগামী প্রজন্মকে সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে।

এক শোক বার্তায় তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদ নাসিম দীর্ঘজীবন ধরে গণমানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সাম্য ভিত্তিক প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান বাঙালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ একজন সৎ, ত্যাগী, নিষ্ঠাবান, অনুসরণযোগ্য এক অকৃত্রিম সুহৃদকে হারালো।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *